"Loading Knowledge... Please Wait Wisely!"

করোনা পরবর্তী বিশ্ব ও অর্থনীতি

করোনা পরবর্তী বিশ্ব ও অর্থনীতি
May 14, 2020 0 Comments admin

করোনা পরবর্তী বিশ্ব ও অর্থনীতি

করোনা পরবর্তী বিশ্বে একটা বড়সড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে এটা মোটামুটি সবাই বুঝে গেছেন ।
বড়বড় অনেক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে দেউলিয়া হয়ে গেছে । অনেকগুলো হওয়ার পথে ।
আবার অনেক ব্যাবসা এসময়ে বুম করছে । বিলিওনিয়ার হয়ে যাচ্ছে অনেকেই। বিলিওনিয়াররা ট্রিলিওনিয়ার হয়ে যাচ্ছে ।
যেমনঃ এমাজন, জুম, ইকমার্স সাইটগুলো ।
ফাইনান্সিয়াল এনালিস্টরা বলছেন এই অবস্থা চলতে থাকলে মে মাসের শেষ নাগাদ অর্ধেকের বেশী এয়ার লাইন্স কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে যাবে ।
বহু বড় বড় হোটেলে তালা ঝুলবে । ট্যুরিজম, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্মগুলো ধসে যাবে । আরো বহু কোম্পানি বসে যাবে ।
এই মহামারী আসলে ঠিক কতদিন থাকবে তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে ।
বিল গেটসসহ করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে কমপক্ষে দুই বছরের আগে কোন কার্যকরী প্রতিষেধক আসার কোন সম্ভাবনা নেই ।
তার মানে অন্তত দুই বছর আমাদেরকে এই পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার মত মানসিকতা তৈরী করতে হবে ।
তাহলে আসলে কি হতে যাচ্ছে সামনে ?

ইকমার্সে বড়সড় একটা বুম হতে যাচ্ছে

মার্কেটগুলো বন্ধ থাকায় চাল-ডাল থেকে শুরু করে অন্যান্য লাক্সারী আইটেমগুলো এখন অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে । যারা এতদিন অনালাইনে কেনাকাটায় অভ্যস্ত ছিলেন না । তারাও এই জায়গাটায় অভ্যস্ত হতে শুরু করেছেন ।

এই ব্যাপারটা থেকে যাবে । বিশেষ করে মেগা শহরগুলোতে যেখানে মানুষের চাপ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে সেখানে অনুমিতভাবে ট্রাফিক জ্যামও বাড়বে ।

মানুষের কাছে এত সময় থাকবে না যে, সারাদিন অফিস করে আবার মার্কেটে দৌড়াবে । ক্রেতাদের একটা বড় অংশ আগেই অনলাইনে ঝুঁকে গিয়েছিল । এখন আরো যাবে ।

আপাতত কয়েক বছর লাক্সারী পন্যের চাহিদা কম থাকবে

কিছুদিন আগে চাল-ডাল ডট কমের সিইও'র ১টা লাইভ দেখছিলাম বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামে । উনি বলছিলেন, উনাদের গ্রোসারী পন্যের ডিমান্ড অনেক বেড়ে গেছে ।

তবে খুব ব্যাসিক আইটেমের ডিমান্ড অনেক বেশী । গুলশান আউটলেটে যেখানে প্রিমিয়াম প্ন্যগুলো বেশী বিক্রি হয় । সেখানেও ব্যাসিক আইটেমের চাহিদা বাড়ছে ।

উনাদের চালের ২টা কোয়ালিটি আছেঃ মিনিকেট প্রিমিয়াম, মিনিকেট ব্যাসিক । মিনিকেট ব্যাসিকটাই সবাই চাচ্ছে ।

সো আপাতত সামনের কয়েক বছর মানুষ একেবারে না হলেই না এমন পণ্যই কেনার দিকে ঝুকবে ।

হা কিছু মানুষের কাছে সব সময় অতিরিক্ত অর্থ থাকবেই, তাদের কথা আলাদা।

চায়না নির্ভরতা কমবে

পুরা বিশ্ব বিশেষ করে ইউরোপ এবং আমেরিকা দেখেছে চায়নার উপর সবাই কতটা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে । চায়না পুরা বিশ্বের ম্যানুফ্যাকচারিং হাব ।

বিশ্বের বড় বড় প্রায়গুলো কোম্পানির ফ্যাক্টরিগুলো চায়নাতে ।

বিশ্ব এখন এটা থেকে বের হওয়ার চেস্টা করবে । নিজেদের প্রোডাক্টিভিটির দিকে ফোকাস করবে বা সস্তা এবং ইফেক্টিভ ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের জন্য অন্য কোন দেশ খুঁজবে ।

মানুষের উপর সরকারী নিয়ন্ত্রন বাড়বে

ইতিমধ্যে আমরা দেখেছি যে, বেশ কিছু দেশের সরকার এই প্যান্ডেমিকের সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের উপর নিয়ন্ত্রন আরো পাকাপোক্ত করছে । তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় কি বলছে , শেয়ার করছে এগুলো কঠোরভাবে মনিটর করছে ।

প্যান্ডেমিক চলে যাওয়ার পরও এগুলো বহাল থাকবে ।

নজরদারীর জন্য বিভিন্ন জায়গায় ডিভাইস বসবে । যেমন চায়না আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স সমৃদ্ধ সিসিটিভি ক্যামেরা অনেক জায়গায় লাগিয়েছে ।

এখন তারা এমন টেকনোলোজি বের করছে যার মাধ্যমে পটেনশিয়াল ক্রিমিনাল বা ক্রাইম করার দিকে ঝোঁক আছে এমন মানুষকে আলাদা করে ফেলবে ।

বিশ্বায়নের শেষ ?

অনেকেই বলছে গ্লোবালাইজেশনের এখানেই সমাপ্তি হচ্ছে । একটা বিশ্বের সাথে আরেকটা বিশ্বের কানেক্টিভিটি কমবে ।

কার্যকরী ভ্যাকসিন না আসলে প্যাসেঞ্জার ফ্লাইট অনিরদ্দিস্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে । সবার কাছেই ক্যাশ ফলো কম থাকবে ।

সো সরকারগুলো নিজেদের প্রোডাক্টিভিটির দিকে ফোকাস করবে । বিশেষ করে কৃষি, স্বাস্থ্য ও আইটি খাতে সবাই সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে ঝুঁকবে ।

ডাক্তার, হেলথ ওয়ার্কারদের ডিমান্ড বাড়বে, হেলথ কেয়ার সেক্টরে পরিবর্তন আসবে

সুস্থতার চেয়ে বড় কোন নিয়ামত নাই, এটা এই মহামারী আবারো বুঝিয়ে দিয়েছে । আর এই সুস্থতার জন্য ডাক্তার ও হেলথ ওয়ার্কাররা সবচেয়ে জোরালো ভূমিকা রাখে ।

দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী দেশের জন্য বিরাট সম্পদ এটা অনেকে রাস্ট্র আরো ভালোভাবে উপলব্ধি করছে । এদের মানোয়ন্নন ও সংখ্যা বাড়াতে রাস্ট্র উদ্দ্যেগ নিবে ।

এছাড়া হেলথ কেয়ার সেক্টরে অনেক বড়সড় চেঞ্জ আসছে । দূর থেকে সেবা দেয়া এবং নেয়ার প্রবনতা বাড়বে ।

অনেক ডাক্তারই এখন টেলিফোন বা ভিডিও কলের মাধ্যমে রোগি দেখছেন ।

অনেক ডাক্তার নিয়মিত ফেসবুক লাইভে এসে পরামর্শ দিচ্ছেন ।

ভবিষ্যতে এটা আরো অর্গানাইজডভাবে হবে ।

কর্পোরেট কালচারে পরিবর্তন আসবে

এই প্যান্ডেমিক বুঝিয়ে দিয়েছে অনেক কাজের জন্য এখন আর অফিসে যাওয়ার কোন দরকার নেই । ইতিমধ্যে টুইটার বলে দিয়েছে যে, প্যান্ডেমিকের পরও তারা বাসায় বসে কাজ করা এলাউ করবে ।

এছাড়া এক্সপেন্সিভ কর্পোরেট পার্টি, ট্যুর এসব কমে যাবে । কারন, আগামী কয়েক বছর সবাই খরচ কমানোর দিকে ফোকাস করবে ।

সেক্ষেত্রে কর্মীদের স্যালারীতেও একটা বড়সড় ধাক্কা আসবে । বেতন্সহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কমতে পারে ।

আইটি ও টেকনিক্যালী দক্ষ লোকেদের প্রচুর ডিমান্ড থাকবে

পুরা বিশ্ব পারতপক্ষে ডিসকানেক্টেড । কিন্তু পুরো বিশ্বকে ভার্চুয়ালী কানেক্ট করে রেখেছে আইটি । প্যান্ডেমিকের পর আইটি ও টেকনিক্যাল খাতে আরো অনেক পরিবর্তন আসবে ।

এমন অনেক কিছু ঘটবে যা এর আগে কখনো ঘটেনি । টেকনিক্যালি এফিসিয়েন্ট লোকজন ভবিষ্যৎ পৃথিবীর নেতৃত্ব দিবে । আমরা জানি ফেসবুকের প্রভাব বর্তমান বিশ্বে কি ।

এরকম আরো প্রতিষ্ঠান আসবে ।

ম্যানেজমেন্ট, হিউম্যান, রিসোর্স, মার্কেটিং সব জায়গা ব্যাপকভাবে ডিজিটাইজেশনের আওতায় আসবে ।

এমনকি যে কাজগুলো আগে মানুষ ছাড়া চিন্তাও করা যেত না, সেগুলো এখন টেকনোলোজি দিয়ে করার চেস্টা করা হবে ।

পুরো বিশ্বের সাপ্লাই চেইনে পরিবর্তন আসবে, হিউম্যান ইন্টারেশন কমবে

প্যান্ডেমিকের কারনে বিশ্বের সাপ্লাই চেইন ধসে পড়েছে । এর অন্যতম কারন হচ্ছে হিউম্যান ইন্টারেকশন । সো বিশ্ব এমন ১টা ব্যাবস্থার দিকে যাবে যেখানে মিনিমাম হিউম্যান ইন্টারেকশন হয় ।

ইতিমধ্যে এমাজন ড্রোণ দিয়ে ডেলিভারি দেয়া শুরু করেছে ।

বড় বড় ফ্যাক্টরিগুলো আগে থেকে অটোমেটেড হতে শুরু করেছিল । এখন এই প্রক্রিয়া স্পিড আপ করবে ।

আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স, ড্যাটা সাইন্স, প্রোগ্রামিংয়ে বৈপ্লবিক কিছু ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে ।

এই যে পরিবর্তনগুলো ঘটবে, এর কি কি রকম প্রভাব বিশ্বের বাজারে পড়তে যাচ্ছেঃ

# কিছু কিছু চাকরী গায়েব হয়ে যাবে, কিছু চাকরীর ডিমান্ড তৈরি হবে ।

# কিছু কিছু স্কিল বাতিল হয়ে যাবে । নতুন স্কিলের দরকার হবে ।

# ছোট ছোট অনেক কোম্পানি বড় কোম্পানিগুলোর সাথে মার্জ হয়ে যাবে ।

# ম্যানেজমেন্ট, হিউম্যান রিসোর্সের ব্যাসিক স্কিল দিয়ে কাজ হবে না । সেই সাথে টেকনিক্যাল স্কিলও বুস্ট আপ করতে হবে ।

# বিশ্বে কর্তৃত্বপরায়ন সরকার ও রাষ্ট্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে ।

# চাকরীর বাজার আগের চেয়ে অনেক প্রতিযোগিতামূলক হবে ।

# অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশে মাইগ্রেশনের হার আরো বাড়বে ।

# শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে রাষ্ট্রের বিনিয়োগ আরো বাড়বে ।

# পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে যারা দ্রুত খাপ খাওয়াতে পারবে তারা টিকে থাকবে, বাকী অনেকেই ঝড়ে যাবে।

 

প্রথম পর্ব এখানেই শেষ হল । নেক্সট পর্বে করোনা পরবর্তী বিশ্বে বাংলাদেশের চিত্র কেমন দাঁড়াবে সিটি নিয়ে কথা বলবো ইনশা-আল্লাহ ।

—————------------

আলহামদুলিল্লাহ্‌, আমাদের আইবিএ এমবিএর স্পেশাল রেগুলার অনলাইন ব্যাচের ক্লাস ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে ইনশাআল্লাহ্‌ । ঈদের পর আরো কিছু ব্যাচ হবে এবং নতুন আরো ৩টি কোর্স শুরু হবে ইনশাআল্লাহ্‌ । কোর্সগুলো হলঃ

#আইবিএ এমবিএ স্পেশাল রেগুলার অনলাইন ব্যাচ
#আইবিএ বিবিএ স্পেশাল রেগুলার অনলাইন ব্যাচ
#আইবিএ এক্সেকিউটিভ এমবিএ স্পেশাল ব্যাচ
#ইংলিশ স্পোকেন

অনলাইন এই কোর্সগুলোতে ৫০% পর্যন্ত ছাড় দেয়া হচ্ছে । সকল ধরনের কোর্স ম্যাটেরিয়ালের অনলাইন কপি ফ্রি দেয়া হবে ইনশাআল্লাহ্‌ । সো আপনাকে এই মুহুর্তে বই বা অন্যান্য কিছু না কিনলেও হবে ।

Capstone শুরু থেকে কোয়ালিটির দিকে সর্বোচ্চ ফোকাস দিয়েছে । আলহামদুলিল্লাহ্‌, Capstone গত ৭ ইনটেক ধরে আইবিএর এমবিএসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সাফল্যের শীর্ষে । আপনি যদি স্মার্ট ও যোগ্য টিমের সাথে আপনার সেরা প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে চান তাহলে নিঃসন্দেহে Capstone আপনার জন্য অন্যতম সেরা অপশন ইনশাআল্লাহ্‌ । আমরা চেস্টা করি সর্বোচ্চটুকু দেয়ার ।

আমাদের কোর্সে এনরোল হতে এই ফর্মটি ফিল-আপ করুন এবং কল করুন 01972-277866

[registration_cap]

Share:

Comment (00)

Leave a reply