নেতিবাচক মানসিকতাকে জয় করা বা নিজের অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রন করা… সম্ভবত এটাই পৃথিবীর সবচাইতে কঠিন কাজ। হয়তো চারপাশের সব যুক্তি বাস্তবতা সবই বুঝতে পারছেন, তবু মনকে মানানো যায় না।
Competitive exam-এর প্রস্তুতির অন্যতম বড় শত্রু এই বিষণ্ণতা । বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হয়ে অনেকেই দেখেছি মাঝ পথ থেকে IBA/BCS/Jobs এর প্রস্তুতি ছেড়ে দিতে ।
নেগেটিভ অনুভূতিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে সামনে এগিয়ে যেতে না পারলে Competitive exam কেন লাইফের অন্য ক্ষেত্রেও সফলতার মুখ দেখা দুস্কর হয়ে যাবে ।
এ বিষয়ে নিচে আমার অনুসরণ করা কিছু জিনিস আপনাদের জানিয়ে দিচ্ছি । এর সবগুলোই যে আপনার জন্য সঠিকভাবে কাজ করবে এমন নয়, তবে কিছুটা হলেও সহায়তা করবে।
“রিল্যাক্স” থাকুন-
খুব অল্পতেই কোনো বিষয়ে অতিরিক্ত চাপ না নেওয়াই উত্তম। মানুষ যখন নিজের কোনো চিন্তা বা অভ্যাস পরিবর্তনে ব্যর্থ হয়, তখন সে মনে করে কাজটি খুবই কঠিন।
আমি দেখেছি অনেকে IBA/BCS/JOB -তে ব্যার্থ হচ্ছে বা লাইফের অন্য ক্ষেত্রেও সফল হচ্ছে না তার পিছনে মুল কারন হল তারা তাদের ডেইলি রুটিন বদলাচ্ছে না বা মানসিক চিন্তা ভাবনায় পরিবর্তন আনছে না ।
একটা জিনিস চেষ্টা করার পরও না পারলে কোন সমস্যা নেই । সব কিছু আপনাকে পারতে হবে এমন কোন কথা নেই ।
অলসতা বা সিনসিয়ারিটি অভাব থাকলে নিজেকে তিরস্কার করুন, চেষ্টা করেও ব্যার্থতার জন্য না ।
নিজেকেই প্রশ্ন করুন-
আমরা প্রতিনিয়ত নিজেদের অনেক প্রশ্ন করি কিন্তু প্রশ্নগুলো আমাদের মনে নেতিবাচক ধারনাই তৈরী করে বেশী।
যেমন অনেকেই বলতে শুনেছি IBA/BCS/JOB এর প্রস্তুতি শুরু করার কিছুদিনের মাথায় তারা ফ্রাস্টেটেড হয়ে যাচ্ছেন । হাতশা কাজ করতে থাকে এত কষ্ট কেন করছি ? কি লাভ এত কিছু করে ?
এর কারন অনেক কিছু হতে পারে, যেমন চারপাশের মানুষের নেতিবাচক কথা-বার্তায় হতাশ হয়ে যাওয়া, বন্ধুদের কার সফলতায় ইনফেরিওর ফিল করা, সর্বোপরি আমি নিজে কেন কাজটি করছি সেটি সম্পর্কে ১০০% সিউর না থাকা ।
তাই মনের নেতিবাচক প্রশ্নটা পরিবর্তন করে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, কীভাবে এটা আমাকে সাহায্য করবে ?
IBA-তে চান্স পেলে আমার লাইফ কিভাবে বদলে যেতে পারে ? ইত্যাদি ।
মোট কথা মনের অজান্তে তৈরি হওয়া প্রশ্নগুলো যেন লক্ষ্যচ্যুত না করে উল্টো আপনাকে লক্ষ্যের আরো কাছাকাছি নিয়ে যায়।
ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলুন, সৃষ্টিকর্তার আরো কাছাকাছি আসুন---
এটা আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় । আমি নিশ্চিত যে মন থেকে নিয়মিত নামায পড়ে, ইসলামের বেসিকগুলো ঠিকভাবে অনুসরণ করে, সব কিছুতেই আল্লাহ্র সন্তুষ্টি খুজে সে আর যাই হোক কখনও হতাশ হবে না ।
নিজের অনুভুতিগুলোর উপর আরো ভালো নিয়ন্ত্রন পেতে অনেকে ধ্যান, যোগ-ব্যায়াম ইত্যাদির কথা বলেন । বিলিভ মি, নামাযের চেয়ে কার্যকরী আর কোন ধ্যান নেই !
বাট, এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মাইন্ডফুলনেস । আপনি কেন নামায পড়ছেন, কেনই বা আল্লাহ্র ইবাদত করছেন, কেনই বা ইসলামের অন্য অনুশাসনসমূহ মেনে চলছেন এসব যদি না জানেন তাহলে ঐ ইবাদত আপনার খুব একটা উপকার করতে পারবে না ।
আর প্রচুর প্রচুর দোয়া করুন । দোয়া আপনাকে আল্লাহ্র আরো কাছাকছি নিয়ে আসবে ।
আয়েশা(রা) বলেন, " তোমাদের মধ্য যদি কারো একটি স্যান্ডালও ছিড়ে যায় তাহলে নতুন আর একটি স্যান্ডালের জন্য আল্লাহ্র কাছে দোয়া কর । কারন আল্লাহ্ না চাইলে তোমার একটি নতুন স্যান্ডাল পড়ারও যোগ্যতা থাকবে না।"
লাইফের পার্পাস সেট করা
আপনার কোন লক্ষ্য উদ্দেশ্য নেই । জীবনকে জাস্ট ফ্লোয়ের উপর ছেড়ে দিয়েছেন । সকালে ঘুম থেকে উঠার পর জানেন না সারাদিনে আপনার কাজ কি । সপ্তাহের শুরুতে জানেন না, এই সপ্তাহে আপনি কি এচিভ করতে চান ।
তাহলে আপনার জীবন নাবিকহীন নৌকার মত এদিক সেদিক ছুটোছুটি করতেই থাকবে ।
জীবনের ১টা স্পিড আনতে হলে, লাইফে ১টা পার্পাস সেট করা খুব জরুরী । জীবনকে তাই কাজ দিন ।
হাসিখুশি থাকুন-
আপনি যদি মনে করেন আপনি ভালো আছেন তাহলে আপনাকে কেউ খারাপ রাখতে পারবে না, ট্রাস্ট মি ! চেষ্টা করুন হাসিখুশি থাকার। পার্থক্যটা নিজেই বুঝতে পারবেন। আপনি যেমনই অনুভব করেন না কেন হাসি আপনার শরীরকে চাঙা করে আপনাকে রাখবে ফ্রেশ ও প্রশান্ত।
এক্ষেত্রে পরিবারের সাথে দৃঢ় বন্ধন অনেক ভালো ভূমিকা রাখতে পারে । আপনার মা-বাবা, ভাইবোনদের বা প্রিয় মানুষদের সময় দিন । এতে করে আপনিই নিজেও অনেক চিয়ারড আপ থাকতে পারবেন ।
মাঝে মাঝেই ভালো স্মৃতি রোমন্থন করুন-
ধরুন চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছেন, এমন সময় নিজের ভেতর খুবই নার্ভাস অনুভব করছেন। কী করবেন এমন সময়?
অতীতে ঘটে যাওয়া অনুপ্রেরনাদায়ক ভালো স্মৃতি মনে করুন যা আপনাকে নিজের যোগ্যতার কথা মনে করিয়ে দেবে।
হতে পারে সেটা কোন একটি ক্রিকেট ম্যাচের কথা যেটি আপনি একাই জিতিয়ে দিয়েছিলেন অথবা এমন কোন স্মৃতি যেখানে আপনি অনেক প্রশংসিত হয়েছিলেন ।
দেখবেন নিঃশন্দেহে আপনি আগের চাইতে ভালো অনুভব করবেন।
প্রতিদিন এই কাজগুলো কিছুটা হলেও আপনাকে ভালো অনুভব করতে সাহায্য করবে। আজ থেকেই শুরু করে দিন, অন্তত চেষ্টা করুন। তবে প্রথমেই চোখে পড়ার মতো ফল আশা করাটা উচিত হবে না । ধৈর্য ধরে চেষ্টা করে যেতে থাকলে ভালো ফল পাবেন ইনশাআল্লাহ্ !
Comment (00)